রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

আপন নিউজ প্রতিবেদন,আমতলীঃ আমতলী উপজেলার রবি ও বোরো মৌসুমে কৃষি পুর্ণবাসনের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত কৃষকদের সহায়তা না দিয়ে ইউপি সদস্যরা তাদের আত্মীয় স্বজনের সহায়তা দিয়েছেন। এতে প্রকৃক কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দাবী জানান কৃষকরা।
জানাগেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের কৃষকদের পুর্ণবাসনের জন্য রবি ও বেরো মৌসুমে ৮ হাজার ২’শ ৯০ জন কৃষকের তালিকা প্রনয়ণ করেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। এর মধ্যে রবি ফসলে ৬ হাজার ১’শ ৯০ এবং বোরো ধানে দুই হাজার ১’শ কৃষককে পুর্ণবাসনে প্রনোদনা দেয়া হয়। ওই তালিকা সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা অনুমোদন করে অমাতলী উপজেলা কৃষি অফিসে জমা দেয়। গত ৮ ডিসেম্বর থেকে ওই কৃষি প্রনোদনা সার ও বীজ কৃষকের মাঝে বিতরন শুরু করেন উপজেলা কৃষি অফিস। অভিযোগ রয়েছে কৃষি প্রনোদনা তালিকা করতেই ইউপি সদস্যরা অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। তারা তাদের আত্মীয় স্বজন, জেলে, শ্রমিক ও কৃষক নয় এমন লোকের তালিকা করেছেন। গত সোমবার উপজেলা আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সার ও বীজ বিতরন করা হয়। ওই সার বিতরনে কৃষক নয় এমন লোকজন প্রনোদনা পেয়েছেন। সার বীজ পেয়েছেন কৃষক নয় ইউপি সদস্যদের আত্মীয় স্বজন। এমন অভিযোগ রয়েছে, প্রনোদনের তালিকা করতে ইউপি সদস্য কৃষকদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের কপি ও ছবি নিয়েছেন কিন্তু তাদেরকে তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেনি।
পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের আবুল বাশার বলেন, আমি স্বমিলে কাজ করি। শুনেছি আমার নাম তালিকায় আছে। কিন্তু আমি সার ও বীজ পাইনি। একই গ্রামের সাহাবুদ্দিন চৌকিদার বলেন, আমি মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমাকে সার ও বীজ দিতে ইউপি সদস্য সোলায়মান ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি নিয়েছেন। কিন্তু সার বীজ দেয়নি। জাকির সিকদার, শাহ আলম হাওলাদার, মোকলেস মৃধা, ইফনুস খান, শাজা প্যাদা, আলাউদ্দিন আকন, কাশেম আকন, রাসেল হাওলাদার, মতি হাওলাদার ও আউয়াল হাওলাদার. বাহাউদ্দিন হাওলাদার, জালাল প্যাদা, কুদ্দুস হাওলাদার, হাতেম হাওলাদার ও সেলিম হাওলাদার বলেন, কৃষি পুর্ণবাসনের তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করতে কাগজপত্র নিলেও তালিকায় নাম নেই। ইউপি সদস্য মোঃ সোলায়মান মৃধা আমাদের নাম বাদ দিয়ে তার আত্মীয় স্বজনের নামে তালিকা করে সার বীজ দিয়েছেন।
পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, ইউপি সদস্য মোঃ সোলায়মান মৃধা কৃষকদের সাব বীজ না দিয়ে তার আত্মীয় স্বজনকে দিয়েছেন। তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসবে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত কৃষকদের সার বীজ দেয়ার দাবী জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, সার বীজ বিতরনের অনিয়মের বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসারকে অবহিত করেছি।
ইউপি সদস্য সোলায়মান মৃধার মুঠোফোনে (০১৭৩১২২৯৪১০) বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ হুমায়ূন কবির বলেন, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের অনুমোদনকৃত তালিকা অনুসারে সার বীজ বিতরন করা হয়েছে। তালিকায় অনিয়ম থাকলে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানরা করেছেন। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন হাওলাদার বলেন, ইউপি সদস্যরা যেভাবে তালিকা দিয়েছে ওইভাবেই আমি অনুমোদন দিয়েছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুমোদনকৃত তালিকা অনুসারে সার বীজ বিতরন করা হয়েছে। তালিকায় অনিয়ম করে থাকলে তারা করেছেন।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply